নোটিশ :
জরুরী ভিত্তিতে সারাদেশে বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীগণকে সিভি, জাতীয় পরিচয়পত্রের স্কান কপি ও সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবির সাথে নিজের লেখা একটি সংবাদ ই-মেইলে পাঠাতে হবে। ই-মেইল :sidneynews24@gmail.com
শিরোনাম :
পুঠিয়া-বানেশ্বর আঞ্চলিক সড়কে নিম্রমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ বিএসপিআই ‘র’ প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল – ইঞ্জিনিয়ার দিবাকর দে এর মা‌য়ের পরলোক গমন, শোক জানিয়েছেন (বিএসপিআই) পরিবার।  পুঠিয়ার গ্রামীণ হাসপাতালে শিশু ইউনিটের উদ্বোধন পুঠিয়ায় যুবলীগ নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল বিজ্ঞাপনের ঘড়িতে দশটা দশ বাজিয়ে রাখার রহস্য  বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সিডনি নিউজ সম্পাদক স্কুলের বেতন নিয়ে অভিভাবকদের চাপ নয়: শিক্ষামন্ত্রী ভোলায় এক মেয়েকে ধর্ষনের পর অন্য মেয়েকে বাল্য বিবাহ করেছে বিজিবি সদস্য প্রবাসীর ডায়েরি: মহামারীতে বেঁচে থাকার গল্প সিডনিতে করোনা আক্রান্ত একই পরিবারের ৪ বাংলাদেশি হাসপাতালে সৌদি আরব, ওমান সহযোগিতা আরও বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাঙালি রান্না নিয়ে এগিয়ে চলেছেন কিশোয়ার নতুন অর্থবছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন আইনে এসেছে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন কবি আদিত্য নজরুলের কবিতা দুঃখ পেলে পাথরও কাঁদে – কবি আদিত্য নজরুলের কাব্যগ্রন্থ। রেল শুধু বাড়ি পৌঁছায় না; খুঁজে দেয় জীবনসঙ্গী মায়ের পোট্রের্ট – অহনা নাসরিন খেলা – অহনা নাসরিন|| সিডনিনিউজ রাজকন্যা লতিফার অবিলম্বে মুক্তি চায় জাতিসংঘ জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে ময়মনসিংহে স্মারকলিপি
“আশ্চর্য রুমাল” (৬ষ্ঠ ও শেষ পর্ব)/ সিডনিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

“আশ্চর্য রুমাল” (৬ষ্ঠ ও শেষ পর্ব)/ সিডনিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

“আশ্চর্য রুমাল” (৬ষ্ঠ ও শেষ পর্ব)

মুনিরা আক্তার

জেনি কিছুতেই রিককে ভুলতে পারছিল না,তাই নিজেকে খানিকটা গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছিল বার বার।ইতোমধ্যেই রুমালের চমৎকারের উপর বিশ্বাস প্রায় উঠেই গিয়েছিল তার।তবে জোসেফ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করল, ধৈর্য ধরতে।বিধাতা হয়তো তার জন্য আরো ভালো কিছু রেখেছেন।জেনি ক্ষিপ্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করল,” তাহলে তোমার এই রুমাল রসিকতার মানে কী?” জোসেফ মৃদু হেসে উত্তর দিল, “এটা কোন রসিকতা নয়।এটা ঈশ্বরের মহিমার একটা ক্ষুদ্র প্রতিফলন।সৃষ্টিকর্তা মহান।তুমি যদি তার সৃষ্টি হয়ে মহৎ হতে পারো, তাহলে সবকিছুই পাবে যা তুমি চাও।এই রুমালের শক্তি তখনই উপলব্ধি করতে পারবে যখন মানুষের উপকার করবে।পরোপকার ওর খাদ্য স্বরূপ।
জেনি ভাবতে লাগলো, “তাইতো! বহুদিন হয়ে গেল আমি কারো উপকার করিনি। উল্টো কয়েকমাস আগে এক ভিখারি হাকডাক করছিল বলে তাকে গালমন্দ করে বের করে দিয়েছি।হয়তো সেই কারনেই এই রুমালের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।নাহ্! ঐ ভিখারিকে খুঁজে বের করে ক্ষমা চাইতে হবে তার কাছে।
বেশ কয়েকদিন ধরে জেনি ভিখারিকে খুঁজে বের করল।তারপর তার কাছে ক্ষমা চাইলো।নিজের জমানো আর বাবার কাছ থেকে নেওয়া কিছু টাকা, জামা কাপড়, আর খাবার দিল ভিখারিকে। ভিখারি বেশ খুশি হলো এবং তাকে আশির্বাদ করল।এরপর থেকে জেনি লক্ষ্য করল, তার জীবনে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে।বাবার চাকরি না থাকা সত্ত্বেও তাদের দিনকাল খারাপ কাটছেনা।
বরং বেশ ভালই কাটছিল।প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পেনশন পেত তার বাবা, যেখানে অন্যান্য শ্রমিকদের পেনশনের টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো।
“অর্থই অনর্থের মূল”।কথাটি একদম খেটে গেল জেনির ক্ষেত্রে।এত টাকার ছড়াছড়ি দেখে উড়াতে শুরু করল।যেসব জিনিস আগে করতো না তা করতে লাগলো। নাইট ক্লাবে যাওয়া, দামী মদ্যপান, জুয়া খেলা এসবেই মেতে থাকতো।তার কাছে হয়তো এটা রিককে ভুলে থাকার একটা সহজ মাধ্যম ছিল। এবার সময় এলো সমাজের, সুযোগ এলো এই জমানো বারুদে ছোট্ট একটা আগুনের ফুলকি ফেলে দেয়ার।ডান্স স্কুলের কয়েকটা ছেলে মেয়ের সাথে দেখা হয়ে গেল জেনির।
তারা রিক আর মারিয়ার সুখে থাকার গল্প বলছিল আর আকার ইঙ্গিতে জেনির ব্যর্থতা নিয়ে তামাশা করতে লাগলো। জেনির চাপা পড়া ক্রোধের আগুন যেন দাবানলের রূপ নিল।নাইট ক্লাব থেকে বেরিয়েই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে তার চোখে পড়ল রিক আর মারিয়া রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। মারিয়ার কোলে একটা বিড়াল ছিল।
তুষার পরছে,এই সময়ে রাস্তায় গাড়ি খুব কম চলাচল করে।।হটাৎ বিড়ালটা মারিয়ার কোল থেকে নেমে রাস্তার মাঝখানে দৌড়ে গেল।ঠিক সেই সময়েই ধূসর রাস্তার অপর প্রান্ত থেকে একটা গাড়ি খুব দ্রুতই এগিয়ে আসছিল।জেনির হাতে সেই রুমাল, সে চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলছে মারিয়াকে মরতে হবে। এখনই এই মুহূর্তে। বিড়ালটাকে কোলে নিয়ে মারিয়া দেখলো একটা গাড়ি খুব দ্রুতই তার দিকে এগিয়ে আসছে।সে আতঙ্কিত হয়ে যায়,স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকে।রিক দৌড়ে এসে মারিয়াকে সজোরে ধাক্কা মারে।
মারিয়া রাস্তার ওপাশে পরে যায়। তারপর!
তারপর কিছুক্ষন নিস্তব্দতা, চোখ খুলে জেনি যা দেখল তা দেখার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না।রিকের রক্তাক্ত নিথর দেহটা পরে আছে রাস্তার মাঝখানে।গাড়িটা তার মাথা একদম থেতলে দিয়ে চলে গেছে।মারিয়া চিৎকার করে উঠলো।কাদতে কাদতে রিকের কাছে গেল।রিকের নিষ্প্রাণ দেহটা কোলে তুলে নিয়ে চিৎকার করে কাদতে লাগলো।
রাস্তায় মানুষ জড়ো হয়ে গেল।পুলিশ এসে রিকের লাশটা নিয়ে গেল।জেনি গত দুই ঘণ্টা যাবত দাড়িয়ে সেই জায়গাটার দিকে তাকিয়ে আছে।তারপর আনমনে হাটতে হাটতে কোথায় যেন চলে গেল। দুই দিন পর জেনিকে ডান্স স্কুলের ছাদে পাওয়া যায়।রিকের নাচের কিছু জিনিস নিয়ে বসে আছে।
কয়েকজন মহিলা তাকে ধরাধরি করে বাড়ি দিয়ে আসে।তার বিদ্ধস্ত অবস্থা দেখে জোসেফ কান্নায় ভেঙে পরে। দিন দিন জেনির অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে।তাই তাকে বাধ্য হয়েই মানসিক হাসপাতালে পাঠাতে হয়।
পাঁচ বছর পর জেনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে।গত এক বছর বাড়িটা তালাবদ্ধ ছিল।কারণ গতবছর তার বাবা মারা গেছে।জেনিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বাবাকে শেষ বারের মত দেখার জন্যে।তখন জেনির কোনো অনুভূতিই ছিল না। এক ফোঁটা চোখের জলও পড়েনি।
জেনি সোজা তার বাবার রুমে গেল।রুমের ভেপসা গন্ধের আড়ালেও একটা চেনা গন্ধ ভেসে আসছিল তার নাকে।তার বাবার গায়ের গন্ধ।জেনি বাবার সব জিনিস দেখছিল।হটাৎ তার চোখ পড়ল টেবিলের ওপর রাখা ডায়েরির দিকে। ডায়েরিটা খুলে পড়তে শুরু করল জেনি।
জেনি মামুনি!
আমি জানি আমি তোমাকে জীবনে তেমন কিছুই দিতে পারিনি।তোমার কোনো সাধ পূরণ করতে পারিনি।কারণ, আমার তেমন সামর্থ্য ছিল না।তোমার ভবিষ্যতের কথা ভেবে তোমার জন্য কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলাম। যা তোমার মামা আমার মৃত্যুর পর তোমাকে দিয়ে দেবে।তবে এই সম্পত্তির অর্ধেকটাই খরচ হয়ে গেছে তোমার জেদ ভাঙাতে।তোমার সেই রুমালের কথা মনে আছে যেটা তোমাকে দিয়েছিলাম? আসলে সত্যিটা হচ্ছে তাতে কোনো বিশেষত্ব নেই।
আমি চেয়েছিলাম তুমি যেন, কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে হলেও মানুষের উপকার করো এবং একজন প্রকৃত মানুষ হও। তুমি যা কিছু পেতে আর ভাবতে যে ত হয়তো ঐ রুমালের ক্ষমতায় পেয়েছো ,আসলে তার সবটাই আমি দিতাম।কিন্তু লোভ আর জেদ যে তোমাকে এতটা অন্ধ করে দেবে ভাবতে পারিনি।
বাবা হয়ে তোমার এই পরিনতি সহ্য করা দুষ্কর।তবে আমি মনে করি তোমার এমন পরিনতি তোমার অসৎ হওয়ার করনেই। আমার বিশ্বাস তুমি একদিন ঠিকই নিজের ভুলটা বুঝতে পারবে। আমার আশীর্বাদ সবসময় তোমার সাথে থাকবে।পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।
ইতি, তোমার হতভাগ্য পিতা।
জেনির চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।তার খুব কষ্ট হচ্ছে। মনে মনে ভাবছে হায় ঈশ্বর! যদি সে রুমালের সত্যিই কোন ক্ষমতা থাকতো! আমি আমার বাবার সাথে একটিবার দেখা করতে চাইতাম, শুধু তাকে বলতাম, আমি তার মেয়ে হওয়ার যোগ্য নই আর বলতাম একটা নাবলা কথা, আমি তাকে সত্যিই ভালোবাসি।

(সমাপ্ত)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




এটি হাসনা ফাউন্ডেশনের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান, এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা,ছবি,অডিও,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি । copyright© All rights reserved © 2018 sidneynews24.com  
Desing & Developed BY ServerNeed.com