নোটিশ :
জরুরী ভিত্তিতে সারাদেশে বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীগণকে সিভি, জাতীয় পরিচয়পত্রের স্কান কপি ও সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবির সাথে নিজের লেখা একটি সংবাদ ই-মেইলে পাঠাতে হবে। ই-মেইল :sidneynews24@gmail.com
শিরোনাম :
বিজ্ঞাপনের ঘড়িতে দশটা দশ বাজিয়ে রাখার রহস্য  বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সিডনি নিউজ সম্পাদক স্কুলের বেতন নিয়ে অভিভাবকদের চাপ নয়: শিক্ষামন্ত্রী ভোলায় এক মেয়েকে ধর্ষনের পর অন্য মেয়েকে বাল্য বিবাহ করেছে বিজিবি সদস্য প্রবাসীর ডায়েরি: মহামারীতে বেঁচে থাকার গল্প সিডনিতে করোনা আক্রান্ত একই পরিবারের ৪ বাংলাদেশি হাসপাতালে সৌদি আরব, ওমান সহযোগিতা আরও বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাঙালি রান্না নিয়ে এগিয়ে চলেছেন কিশোয়ার নতুন অর্থবছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন আইনে এসেছে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন কবি আদিত্য নজরুলের কবিতা দুঃখ পেলে পাথরও কাঁদে – কবি আদিত্য নজরুলের কাব্যগ্রন্থ। রেল শুধু বাড়ি পৌঁছায় না; খুঁজে দেয় জীবনসঙ্গী মায়ের পোট্রের্ট – অহনা নাসরিন খেলা – অহনা নাসরিন|| সিডনিনিউজ রাজকন্যা লতিফার অবিলম্বে মুক্তি চায় জাতিসংঘ জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে ময়মনসিংহে স্মারকলিপি রাজশাহীর পুঠিয়ায় পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা একটি মৃত্যু অতঃপর কিছু প্রশ্ন।। কলমেঃ অহনা নাসরিন সন্ধ্যা নামতেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে মাদকের আসর আত্মনির্ভরশীলতাই সফলতা অর্জনের একমাত্র পথ – আব্দুর রহিম হাওলাদার (রাজু)
হামলাকারীরা এখনো অজ্ঞাত, মিছিলের অগ্রভাগে ছাত্রদল-যুবদল

হামলাকারীরা এখনো অজ্ঞাত, মিছিলের অগ্রভাগে ছাত্রদল-যুবদল

হামলাকারীরা এখনো অজ্ঞাত, মিছিলের অগ্রভাগে ছাত্রদল-যুবদল

ফাতেমা মীম – বরিশালঃ- বোরহানউদ্দিনে শান্তিপূর্ণ মিছিলের পর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পুলিশের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। হামলা অংশ নিয়েছিলেন এমন কয়েকজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা খুঁজছেন। তাদের ছবিও কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। এমনকি পুলিশের ওপর হামলার আগে বোরহানউদ্দিন উপজেলা যুবদল-ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মিছিল নিয়ে মারমুখী অবস্থায় সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেছিল। সেই ঘটনার স্থিরচিত্র কালের কণ্ঠের কাছে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধারণা, পুলিশ এবং সংখ্যালঘুদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে তারা একই গ্রুপের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিক্ষোভ মিছিলটি না করার জন্য বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন এবং বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানকে পুলিশ অনুরোধ জানায়। সাধারণ মানুষ আসার আগেই পুলিশ তাদেরকে কাজটি করতে বলে। পুলিশের অনুরোধে এ দুই ইমাম সকাল ১০টার দিকেই যেসব লোক এসেছিল, তাদের নিয়ে দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলের সমাপ্তি ঘটান। মাঠে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা যে যার মতো করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করছিল। পুলিশও ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

কিন্তু ততক্ষণে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার লোক এসে ঈদগাহে জড়ো হয়েছে। একপর্যায়ে তারা ওই দুই ইমামের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং সেখানে থাকা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। মিছিল করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান শুরু করে তারা। পরে পুলিশ ‘বাটামারা পীর সাহেব’ মাওলানা মহিবুল্লাহকে সেখান থেকে ঈদগাহ জামে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যায়। মাওলানা মহিবুল্লাহকে পুলিশ আটক করেছে বলে গুজব ছড়ানো হয়। ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে 
বাটামারা হুজুরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এমন গুজব রটিয়ে সমাবেশে আগত শিক্ষার্থীদের ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়া হয়। ঠিক তখনই একদল যুবক মাঠে থাকা পুলিশদেরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ তখন আত্মরক্ষার্থে ঈদগা মসজিদের দোতলার ঈমাম-মুয়াজ্জিনের কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে মসজিদের দোতলায় ইট ছুঁড়তে থাকে।

তখন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফ আলী সবুজের নির্দেশনায় মসজিদের নীচ তলা থেকে অন্তত ৩০ জন যুবক দোতলায় ওঠেন। তারা পুলিশের আশ্রয় নেওয়া কক্ষের দরজা-জানালার অংশ বিশেষ লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে ফেলে। দরজার বাইরে থাকা বেশ কয়েকজন মুসল্লি তাদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পুলিশ তখন আত্মরক্ষার্থে কক্ষ থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তারা টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন। তখন পুলিশের এক সদস্য গুলিতে আহত হন। তাকে চিকিৎসার জন্য দেতলা থেকে নীচতলায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে ওই যুবকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশ উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে গুলিবর্ষণ করে যুবকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজন নিহত হন। শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ভোলা সদর হাসপাতাল এবং বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

যাদেরকে খুঁজছে পুলিশ
পুলিশ প্রশাসন বলছে, ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করা হলেও একটি পক্ষ ওই সমাবেশে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলার অগ্রভাগে ছিলেন এমন বেশ কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ যুবক বোরহানউদ্দিনের বাইরে থেকে এসেছেন। হামলার সময়কার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে দোতলায় এক যুবক খালি গায়ে হামলা চালিয়েছিলেন। তার পরিচয় জানা যায়নি। তার পাশেই কাঠ হাতে আরো এক যুবক ছিলেন। তার ব্যাপারে বোরহানউদ্দিনের প্রশাসন কোন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি। এছাড়া মাথায় লাল রুমাল ও চোখে কালো চশমা পরিহিত যুবকের ছবি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে পাঠানো হলেও তারা ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। কালো শার্ট আর কালো গেঞ্জির সঙ্গে সাদা টুপি পরিহিত যুবককেও খুঁজছে পুলিশ।

অগ্রভাগে যুবদল-ছাত্রদল 
এক হিন্দু তরুণের ফেইসবুক আইডি হ্যাক করে ম্যাসেঞ্জোরে ‘ধর্ম অবমাননাকর’ কথাপোকথন ছড়ানো হয়। সেই কথাপোকথনের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়। ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে শুরু হয় আন্দোলনের ছক। যদিও ওই তরুণ আইনগত ব্যবস্থা নিতে গিয়ে ছিলেন থানায়। থানা পুলিশও বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তরুণকে নিজেদের হেফাজতে রাখেন। তাকে সঙ্গে নিয়েই হ্যাকারদের ধরে ফেলেন। আন্দোলনকারীদের নিয়ে প্রশাসন রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। হ্যাক হবার বিষয়টি তারা জেনেই রবিবারের কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রশাসনকে নিশ্চিত করেন।

কিন্তু নেপথ্যে একদল তরুণ ধর্ম অবমাননাকারী হিসেবে ওই তরুণের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন চালান। স্থানীয় প্রশাসন বলছে তাদের অধিকাংশই সরকারবিরোধী। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি মিছিলের অগ্রভাগে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিহাব উদ্দীন, উপজেলা যুবদলের আশ্রাফুল আলম খান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আশ্রাফুল ইসলাম সবুজ, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হেলাল মুন্সি।

তারা যা বললেন
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সিহাব উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, মানিকারহাট মসজিদের খতিব মাওলানা ফকরুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি মিছিল ঈদগাহ মাঠের দিকে যাচ্ছিল। তখন আমি মানিকারহাটে ছিলাম। হুজুরের অনুরোধে মিছিলে অংশ নেই। মিছিলটি সুষ্ঠুভাবে ঈদগা মাঠে পৌঁছায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। পরে শুনেছি সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালিয়েছে। তাতে আন্দোলনকারীদের ৪ জন নিহত হয়েছেন।

সিহাব উদ্দীন আরো বলেন, শুধু আমি নই, কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নাজমূল আহসান যুবায়েদের ছেলে পাভেলও ছিলেন ওই মিছিলে। তবে বিএনপি কিংবা তার সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে তিনি ওই মিছিলে দেখেননি। সিহাবের ভাষ্যমতে, তার বিরুদ্ধে নাশকতা আর চাঁদাবাজির ঘটনায় থানায় অন্তত ৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় মামলাগুলোতে আমাকে পরিকল্পিতভাবে জড়ানো হয়েছে। এখনো দুই মামলা বিচারাধীন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আমার একসময়ের সহপাঠী স্থানীয় সংসদ আলী আজম মুকুলের হাত ধরে প্রতিজ্ঞা করে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি।

পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হেলাল মুন্সি কালের কণ্ঠকে বলেন, যেখানে সমাবেশ হয়েছে, সেই মসজিদের পেছনেই আমার বাসা। তাই সকাল থেকেই সমাবেশস্থলে পাশের রাস্তায় ছিলাম। কিন্তু সমাবেশে অংশ নিইনি। এমননি পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষের আগেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছি। পাশে উপজেলা যুবদলের আশ্রাফুল আলম খানে মিছিলে শ্লোগান দেওয়া সম্পর্কে হেলাল বলেন, আমি ওই নামের কাউকে চিনি না। সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতারা অর্থ দিয়ে সহয়তা করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। রাজনীতি সম্পর্কে বলেন, প্রায় ৫ বছর হয়েছে দল ছেড়েছি। একটা পত্রিকায় কাজ করতাম, এখন আর রিপোর্ট পাঠাই না। তার পরেও নাশকতার অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।

ভোলা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার সাংবাদিকদের বলেন, কতিপয় যুবক পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছি। এ ঘটনায় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হামলার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো আমরা বিশ্লেষণা করে দেখেছি, হামলাকারীরা বাইরে থেকে এসেছে। তাদের শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.




এটি হাসনা ফাউন্ডেশনের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান, এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা,ছবি,অডিও,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি । copyright© All rights reserved © 2018 sidneynews24.com  
Desing & Developed BY ServerNeed.com